অফিস ডেস্ক
অদ্য ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার, চট্টগ্রাম সমিতি মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’ স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ কর্তৃক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আপনাদের সবাইকে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র জীবন সদস্যদের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।আজ আমরা আপনাদের সামনে একটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক বিষয়ে আমাদের অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছি।চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা একটি শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী, অরাজনৈতিক ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ সমিতি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তবে আজ এই সমিতির অস্তিত্ব ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অর্থ আত্মসাৎ:
অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা-এর ভবনে গতকাল ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার সকাল ১১:৪৫ মিনিটে অফিসকালীনসময়ে নাছির উদ্দীন মিজান, মোঃ মামুন হোসেন, শাহাজাহান মন্টু, মুবিনুল ইসলাম, মীর দোস্ত মোহাম্মদ খান, এম এ হাশেম রাজু, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এর নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী লোকজন আকস্মিক সমিতি ভবনে প্রবেশ করে সবাইকে জিম্মি করে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধর করে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং সিসিটিভির ডিভিআর খুলে নিয়ে যায়। পরে সমিতির জীবন সদস্য ও কমিটির কর্মকর্তাদের আসার খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়, সেই সময় তাদের মধ্যে ০২ জনকে সমিতি ভবনে আটক করে রাখা হয়।
তারা সমিতির ভাড়টিয়াদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে। এসব কর্মকাণ্ড চট্টগ্রাম সমিতির আইনি ও গঠনতান্ত্রিক কাঠামোর চরম লঙ্ঘন, যা সমিতির মর্যাদা ও কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আমাদের অবস্থান ও দাবি:
আমরা, চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র জীবন সদস্যরা, দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি: কারো ব্যক্তি স্বার্থে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।
-২-
যারা বেআইনিভাবে ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে অবৈধভাবে সমিতি দখলের পাঁয়তারা করছে, স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা প্রদান ও অর্থ আত্মসাৎ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা চাওয়া:
বহিরাগতদের এহেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।সবশেষ বলতে চাই, চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা কোনো ব্যক্তির নয়—এটি আমাদের সবার। শত বছরের এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষ করে সাংবাদিক বন্ধুদের—সহযোগিতা আমাদের একান্ত প্রয়োজন।
আপনাদের মাধ্যমে আমরা এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই—অবৈধ দখলের পাঁয়তারা, চাঁদাবাজি, অর্থ লুন্ঠনের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ। গঠনতান্ত্রিক নিয়মে নির্বাচিত নেতৃত্বই হোক চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র ভবিষ্যৎ। সাংবাদিক সম্মেলনে সমিতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা, স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ এর আহ্বায়ক আরিফ উদ্দিন, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জয়নুল আবেদীন প্রমুখ সহ জীবন সদস্যবৃন্দৃ।