অফিস ডেস্ক
মোঃ রাকিবুর রহমান রকিব,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :-জেলা সরাইল উপজেলায় শাহবাজপুর- শাহজাদাপুর রাস্তার উপর ৩১ মি: লম্বা আরসিসি গাটার ব্রিজ প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ, ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে।
নির্মাণাধীন ব্রিজের উদ্বোধনের আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী বলেছেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে, এ ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। যা এলাকার হাজারো মানুষ ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের বরাদ্দে প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই দেখা দিয়েছে ফাটল এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা সবাই খুব খুশি ছিলাম। কারণ এই ব্রিজটি চালু হলে আমাদের দীর্ঘ দিনের কষ্ট লাঘব হবে। আমরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারব। কিন্তু অনিয়মের ফলেই ব্রিজে ফাটল হয়েছে। এতে নির্মাণাধীন ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তারা বলেন,ব্রিজ নির্মাণে সিমেন্ট কম, কিউরিং ছাড়া ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে, ইটসহ বিভিন্ন সামগ্রীর নিম্নমানের বালু, রড ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে ঢালাই অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে,যা ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আমরা এই ব্রিজের কাজের তদন্ত দাবি করছি।সরেজমিন ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে ফাটলের ছবি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের সাথে কথা হয়,শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মিন্টু মিয়া তিনি বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের ইট-বালু-সিমেন্ট-রড ব্যবহার করছিল। তদারকির অভাবেই এ অবস্থা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোকমান এন্টারপ্রাইজ, মো. লোকমান সাংবাদিকদের বলেন, মাটি সংকটের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করেছি। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। ফাটলের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
সরাইল উপজেলা এলজিইডি সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, ব্রিজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই কোটি ৮৬ হাজার টাকা। বিল পরিশোধের বিষয়ে জানতে চাওয়া হইলে তিনি বলেন অফিসে গিয়ে জানাবো। ব্রিজের ফাটলের বিষয়ে তিনি বলেন, এই ফাটল ব্রিজের বড় ধরনের কোন ক্ষতি করবে না। তবে ফাটলের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।