অফিস ডেস্ক
শাহ আলী বাচ্চু স্টাফ রিপোর্টার জামালপুর:-
জামালপুরের বকশীগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার মিছিলে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ সহ ৫৯ জন ও আরো ২০০/৩০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানকেও আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর খানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জনৈক মোহাম্মদ সুমন মিয়া বাদী হয়ে বিগত ২০/১১/২০২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করেন।
২৪ নভেম্বর (সোমবার) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৭ জুলাই স্কুল-কলেজের ছাত্র ছাত্রী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনগণ স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে পৌর শহরের পানহাটি মোড় হইতে বিকাল ৩.০০ ঘটিকার সময় একটি মিছিল বের করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
আন্দোলন প্রতিহত করতে মিছিলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা হামলা চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং স্লোগান দিতে থাকে যে ”বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বললে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে”। পরে তারা মিছিল নিয়ে মালিবাগ মোড়ে বিসমিল্লাহ হোটেলে অগ্নিসংযোগ করে হোটেলের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মালামালের ক্ষতিসাধন করে।
পরদিন ১৮ জুলাই একইভাবে সরকার পতনের লক্ষ্যে ছাত্র জনতা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে নামীয় আসামিরা সহ অজ্ঞাত আরও ২০০/৩০০ জন ব্যক্তি আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তাদের হামলায় ছাত্র জনতার আন্দোলনের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
ওই মামলায় দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিনা বেগম, সহ সাধারন সম্পাদক আগা সাইয়ুম, সহ সভাপতি জয়নাল আবেদীন, পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন, মিষ্টার রানা, শফিকুল ইসলাম, সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের এপিএস মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শিলা সারোয়ার, সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু, লিয়াকত হোসেন লাজু, প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম (বিদ্যুৎ), হাবিবুল্লাহ মাস্টার, শ্রী লিটন কুমার সাহা, নজরুল ইসলাম ইদু, ফজলুল হক ওয়ালেছ, এনামুল হক আনছারী, এমদাদ হোসেন, আলহাজ্ব ইলিয়াছ উদ্দিন, মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তাওফিকুর রহমান খিজির, মোশারফ হোসেন মিরাজ,বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জুয়েল তালুকদার, ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান লাখপতি, কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল, আমীর ফয়সাল, সবুজ মেলেটারী, রাজন মিয়া, শাহ মোহাম্মদ শান্ত, জুম্মান তালুকদার, সাইদুর রহমান লাল, এসএম আমীন সাদ্দাম, সেলিম, জুয়েল হাজারী, মোরশেদুজাম্মান চাঁন মিয়া, মানিক হাসান মন্ডল, সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির আলমাছ, জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক কমিশনার ফরহাদুজামান ফুটা, ইমরান আনছারী, ডা: শাহজালাল খন্দকার, হিটলার মেম্বার, জয়নাল আবেদীন, সিদ্দিক মিয়া, আহম্মদ উল্লাহ, শাহীন মিয়া, ফাহিম ফয়সাল রিফাত, আরিফুর বানু, সোনা মিয়া, লায়ন, ফটিক মেম্বার, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জহুরা বোগম, মান্নান, আহসান, মুক্তার, শামীম, মোস্তফা কামালসহ নামীয় ৫৯ জন ও অজ্ঞাত ২০০/৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ, মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই মামলায় তদন্ত সাপেক্ষে নামিয় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।