অফিস ডেস্ক
শাহ আলী বাচ্চু স্টাফ রিপোর্টার জামালপুর;-জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে দেশের বৃহত্তম যমুনা ইউরিয়া সার কারখানা গ্যাস সংকটে টানা ২৩ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারণে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে রাষ্ট্রৈর।এই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভও।
যমুনা সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) বলেন, “যমুনা সার কারখানায় দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৭৮–৮০ এমএমসিএফ।বর্তমানে আমরা তার এক-তৃতীয়াংশও পাই না।এ অবস্থায় উৎপাদন সম্ভব নয়।” তিনি আরো জানান,উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ,স্থাপনা পরিচালনাসহ প্রতিদিন তিন কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, “যমুনা সার কারখানার ইউরিয়া সারের গুনগতমান ভালো হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষকের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় বাজারে মানসম্মত ইউরিয়ার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”তিনি জানান ,দীর্ঘমেয়াদে এই কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় সাংবাদিকদ ও কলামিস্ট আল আমিন বলেন, “যমুনা সার কারখানা চালু থাকলে প্রতি বছর ৮-৯ লাখ টন ইউরিয়া দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব । এতে দেশের কৃষকের চাহিদা পূরণ হতো । উৎপাদন বন্ধ থাকায় বর্তমানে পুরোটা আমদানি করতে হচ্ছে। এর জন্য বছরে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১.১ থেকে ১.৩ বিলিয়ন ডলার।” তিনি আরও বলেন, “একদিকে দেশের রিজার্ভ কমছে, অন্যদিকে আমদানি নির্ভরতা বাড়ছে—এটি অর্থনীতির জন্য দ্বিমুখী চাপ ।
যমুনা সার কারখানার শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)’র সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তিনটি দাবী জানান,
১। সার কারখানার জন্য বিশেষ গ্যাস কোটা নির্ধারণ করা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প গ্যাস সরবরাহ করা।
২। স্বল্পমেয়াদে এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদন অন্তত আংশিক চালু করা সম্ভব হবে।
৩। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসকূপ অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করা ।স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া স্থায়ী সমাধান নেই।
জামালপুর জেলা ট্রাক, ট্যাঙ্কলড়ী, কভার্ডভ্যান, মিনিট্রাক ও ট্রাক্টর চালক শ্রমিক ইউনিয়ন-৩৬৪০’র সভাপতি আঃ মোত্তালেব বলেন, ‘যমুনা সার কারখানা টানা ২৩ মাস বন্ধ থাকা শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়—এটি কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং মোট কথা অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত পড়ছে। গ্যাস সংকট সমাধানে জরুরী ভাবে উদ্যোগ না নিলে আরও বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে কৃষি ও শিল্প খাত ।
যমুনা সার কারখানার প্রশাসন জিএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কারখানায় চাহিদা মোতাবেক গ্যাস পূরণ হলেই আমরা পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারবো" । কবে নাগাদ গ্যাসের চাহিদা পূরণ হবে এর ভবিষ্যৎ তার নিকট অনিশ্চিত।