অফিস ডেস্ক
পলাশবাড়ী(গাইবান্ধা)প্রতিনিধিঃ- গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) পলাশবাড়ী উপজেলার বিশ্বাসভিত্তিক কেন্দ্র মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একাধিক অংশীজনের সমন্বয়ে পরিচালিত কর্মসূচির আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সহযোগিতা করে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং বাস্তবায়নে ছিল আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক বেসরকারি সংস্থা দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট। স্থানীয়ভাবে আয়োজন করে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রæপ (পিএফজি), পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা।
মতবিনিময় সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা,সহিংসতা প্রতিরোধ, নাগরিকদের দায়িত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ওয়ালীউল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে ও জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও কিশোরীগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আলা মওদুদ, বিএনপি নেতা মুকুল আহমেদ,সিপিবি সভাপতি ও এমপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু,পলাশবাড়ী প্রেসক্লাব সভাপতি শাহ আলম সরকার,সাংবাদিক রবিউল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ফাহমিদা খাতুনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সক্রিয় ও সচেতন ভ‚মিকা অপরিহার্য। সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা জানান, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের নাগরিক সংলাপ ও মতবিনিময় সভা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।
গবাদি পশুর গায়ে কম্বল দিয়েও থামছে না কাঁপুনি, দুশ্চিন্তায় গৃহস্থরা পলাশবাড়ী(গাইবান্ধা)প্রতিনিধিঃ পৌষের ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় গাইবান্ধা জেলাজুড়ে বেড়েছে শীতের প্রকোপ।
তীব্র এই শীতের কবল মানুষের পাশাপাশি কাঁপছে গবাদি পশু-পাখিও। এসব প্রাণী রক্ষায় গায়ে মুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে- কম্বল। তবু থামছে না কাঁপুনি। শীতে কাবু এসব গরু-ছাগল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন গৃহস্থরা।
ওবিশেষ করে খামারের প্রাণীর শীতজনিত রোগের আশঙ্কা করছেন খামারিরা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে তাদের অভিযোগ।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌষের প্রথম সপ্তাহ এসে পলাশবাড়ীর চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে।
কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়ছে মানুষসহ পশুপাখি। এ অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা মেলে না। চারদিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। সেই সঙ্গে উত্তরের মৃদু হিমেল হাওয়া বইছে। দিনশেষে রাত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই বাড়তে থাকে কুয়াশার দাপট। যেন বৃষ্টির মতো ঝরছে এসব কুয়াশা।
এ কারণে বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা। কনকনে এই ঠান্ডায় জবুথবু হওয়া পশুপাখিগুলো নাজেহাল হয়ে পড়ছে। এ নিয়ে শীতজনিত নানা রোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।শিউলি আক্তার নামের গৃহবধূ জানান, তার স্বামী নুরুল ইসলাম পেশায় একজন দিনমজুর। এনজিও ঋণের টাকায় একটি বকনা বাছুর কিনেছেন। সেটির প্রজনন থেকে এখন তার ২টি গরু হয়েছে। এ থেকে দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু এরই মধ্যে শীতে দাপটে ওইসব প্রাণী রক্ষায় চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
খাটিয়ামারী চরের শাহাদৎ হোসেন বলেন, গরু-ছাগল লালন-পালন করেই সংসার চালাই। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঠান্ডায় এসব প্রাণী কাবু হয়ে পড়ছে। কম্বল মুড়িয়ে দিয়েও কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগে জানানো হলেও সঠিক কোনো পরামর্শ পাওয়া যায়নি।উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) আব্দুল মোনায়েম খন্দকার বলেন, শীতকালে গরু-ছাগল পালনে যতœশীল হতে হবে। বিশেষ করে ছাগলের ঘরে ঠান্ডা বাতাস যেন না ঢোকে, রাতে যেন তাপমাত্রা কোনোভাবেই কমে না আসে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। সেইসঙ্গে পানীয় পানে হালকা গরম পানি দিলে ভালো হয়।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পশুপাখি যেন শীত আক্রান্ত না হয়, সে ব্যাপারে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।