ভুয়া সনদে দেড়যুগ ধরে শিক্ষকতা করছেন মাদরাসার সুপার


ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ-গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শিক্ষক নিবন্ধনের জাল সনদে দেড়যুগ ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে মাদারাসার এক সুপারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক তথ্য চাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। 

 

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আতাউর রহমান উপজেলার সোনারহাট দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট।
 

বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

জানা গেছে, মো. আতাউর রহমান মাদরাসাটির সহকারী সুপার পদে ২০০৬ সালের ৪ নভেম্বর নিয়োগ পান। ওই সময় সহকারী সুপার পদে নিয়োগে ইনডেক্সধারী বা শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত ছিল। কিন্তু এর কোনোটিই ছিল না মো. আতাউর রহমানের। তবুও তিনি আবেদনের সঙ্গে ২০০৫ সালের প্রথম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণের একটি সনদ যুক্ত করেন। যেখানে বিষয় দেখানো হয়েছে ইসলাম শিক্ষা। নিবন্ধন নম্বর: ০৫৫০০৮৪৭/২০০৫।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসি) শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাশ করতে পারেননি আতাউর রহমান। উৎকোচের মাধ্যমে ওই জাল সনদ তৈরি করেন তিনি। সেই সনদ দিয়ে হন সহকারী সুপার। যার ইনডেক্স নম্বর: ২০২২২৮৫। 

 

এই ইনডেক্স নম্বর দিয়ে পরে প্রভাব খাটিয়ে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল সহকারী সুপার থেকে সুপারিনটেনডেন্ট পদ বাগিয়ে নেন।এদিকে, জাল সনদ শনাক্তকরণে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শিক্ষকের তথ্য চেয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তথ্য পাঠাতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

কিন্তু সম্প্রতি সুপারিন্টেন্ডেন্টের তৈরি করা তালিকায় দেখা যায়, অন্যান্য শিক্ষকদের নামের পাশে এনটিআরসিএ’র রোল, রেজিস্ট্রেশন ও পাশের সাল দেখানো হলেও নিজের রোল, রেজিস্ট্রেশন ও পাশের সালের কলাম তিনটি ফাঁকা রেখেছেন তিনি।

 

সুপারিনটেনডেন্ট হয়ে নিজের নিবন্ধন সনদের তথ্য গোপন করার বিষয়টি ফাঁস হলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় শিক্ষকদের মাঝে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক সুপারের জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুপারিনটেনডেন্ট মো. আতাউর রহমান বলেন, আমি নীতিমালা অনুযায়ী চাকরি করছি। আগে যারা নিবন্ধন ছাড়াই চাকরিতে জয়েন্ট করেছি তাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাহী আদেশে বৈধতা দিয়েছেন। আমাকে হয়রানি করার জন্য একটি পক্ষ এসব অভিযোগ বিভিন্ন জায়গায় দিচ্ছে।

 

নিয়োগের সময় জাল নিবন্ধন সনদ জমা দেওয়ার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

 

গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া করা হবে।

 


প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুল ইসলাম ওমর, সাবেক এমপি ও বিরোধী দলীয় হুইপ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ মাক্সুদুল আলম হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদকঃ এম নজরুল ইসলাম

ফোনঃ ০১৭১৭০১৬১৩০

যোগাযোগঃ অফিসঃ সাতমাথা, বগুড়া গাজীপুর অফিসঃ সিলমন, টঙ্গি, গাজীপুর

© 71 Vision ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।