অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, সময়ঃ ০৭:৪০
সঞ্জু রায়,বগুড়া:-২৪শে ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৩টা। বগুড়ার একটি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির খবর পেয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ডাকাতদলকে ফিল্মি স্টাইলে ধাওয়া করেছিলো জেলা পুলিশের সদস্যরা।
উল্টোদিকে ডাকাতচক্রের সদস্যরাও ছিলেন পুরো পেশাদার, মহাসড়কে গাড়ির ভেলকি দেখিয়ে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করে পুলিশের পিকআপকেই। সাহসী আভিযানিক দল এসময় শর্ট গানের ৪ রাউন্ড গুলি ছুড়লে ট্রাক ফেলেই সেদিন পালিয়ে গিয়েছিল ডাকাত দলের সদস্যরা।
পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই প্রশ্ন করেন শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিল?
প্রকৃতঅর্থে সেদিন ডাকাতরা মহাসড়ক থেকে নেমে অন্ধকার জঙ্গল দিয়ে পালিয়ে গেলেও ট্রাকের পাশাপাশি তারা ফেলে গিয়েছিলো শর্ট গানের ৪টি গুলি, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ৪টি হাসুয়া, ১টি চাকু, ৫টি রশি, ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোনসহ বেশকিছু সরঞ্জাম।
যেগুলোর সূত্র ধরে তদন্ত শেষে অভিযানের নেতৃত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুরের তত্ত্বাবধানে ৮ দিন পর জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ ইকবাল বাহারের নেতৃত্বাধীন আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেন আন্তজেলা ডাকাত দল চক্রের ২ সদস্য মোদাছছের ও ইউসুফ আলীকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া সদর থানায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা মঞ্জুর। তিনি বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলের এই চক্রটি দীর্ঘ সময় থেকেই দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতি করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা।
গত ২৪ তারিখে বগুড়ায় দুটি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে বগুড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও এমআর ব্রাদার্স ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে ডাকাতিও ছিলো তাদের সুপরিকল্পনার অংশ। কিন্তু সেদিন সদর থানার এসআই জিয়াউর রহমানসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের সাহসী অভিযানে ভেস্তে যায় তাদের নিরাপদ এক্সিটের পরিকল্পনা।
তিনি আরো বলেন, পেশাদার এই ডাকাতদলে ১০ থেকে ১২ জন জড়িত থাকতে পারে যাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর গ্রেফতারকৃত দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়।
© 71 Vision ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।