শিক্ষা কর্মকর্তা এমপিও আবেদনে ভুয়া–জালিয়াতি ও ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ


পলাশবাড়ী(গাইবান্ধা)প্রতিনিধিঃ-গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম নকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তির আবেদনে ভয়াবহ অনিয়ম, জাল–জালিয়াতি ও ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।পলাশবাড়ীর পাশাপাশি তিনি সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় এই তিন উপজেলায় ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষক–কর্মচারীরা গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। 

 

ছয়জন প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে বলা হয়, বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের এমপিও আবেদন নানা অজুহাতে ফেরত দেওয়া হলেও ভুয়া কাগজপত্র, জাল সিল–স্বাক্ষর ও টেম্পারিং করা সিএস কপিসহ আবেদন ২–৩ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অগ্রায়ন করা হচ্ছে।

 

অভিযোগে সাদুল্লাপুর উপজেলার হিংগারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের কথিত আইসিটি শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হকের ভুয়া নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয়। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি উপজেলা যাচাই–বাছাই কমিটিতে তার সিএস কপিতে শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকার বিষয়টি ধরা পড়লেও পরে জাল কাগজ ব্যবহার করে এমপিও আবেদন অগ্রায়ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

একইভাবে মাদারহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম (ভৌতবিজ্ঞান) ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী খালেদা খাতুনের নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ ভুয়া বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও রেজুলেশন ব্যবহার করে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের এমপিও আবেদন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

 

অভিযোগকারীদের একজন ইদ্রাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম নকিবুল হাসান বৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিও আবেদন গ্রহণ না করে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া নিয়োগপ্রাপ্তদের ফাইল অগ্রায়ন করছেন। এতে শিক্ষকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শেরপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. এনামুল হক বলেন, তিন উপজেলার দায়িত্বকে পুঁজি করে নকিবুল হাসান ঘুষ–বাণিজ্য, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছেন। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এএইচএম নাজিমুজ্জামান বলেন, নকিবুল হাসান একটি সিন্ডিকেট গড়ে দুর্নীতিতে জড়িত। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ভুয়া ফাইলগুলো পুনরায় যাচাই করে এমপিও প্রক্রিয়ায় পাঠানো জরুরি।

 

ভুয়া–জালিয়াতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাদারহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধ দাবি করেন। তবে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে ফোন কেটে দেন। অভিযুক্ত সাদেকুল ইসলাম ও আয়া খালেদা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

অন্যদিকে, হিংগারপাড়া বিএম কলেজের কথিত আইসিটি শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আগে যাচাই–বাছাইয়ে সিএস কপিতে স্বাক্ষর না থাকার মন্তব্য থাকলেও পরে তা ‘সঠিক হয়েছে’। তিনি বিস্তারিত না জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি না করার অনুরোধ জানান।

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম নকিবুল হাসানের মুঠফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলতে রাজি হননি। পরবর্তীতে রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তাকে পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাওয়া যায়নি।

 

সবশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সাদুল্লাপুর অফিসে উপস্থিত হলে তিনি বলেন, শতশত শিক্ষক–কর্মচারীর এমপিও আবেদন ৩–৪ দিনের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারে বসে যাচাই করা সম্ভব নয়। ভুয়া ও জালিয়াতিপূর্ণ আবেদন অগ্রায়নের দায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বলে মন্তব্য করে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

 

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান অভিযোগের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে করা কোনো আবেদন এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবে না এবং এসব আবেদন বাতিল করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক ও আবেদন অগ্রায়নকারী কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

 

অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তিন উপজেলার দায়িত্বে থাকলেও নকিবুল হাসান কোনো উপজেলা অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। 

 

জেলা শহরে ব্যক্তিগত বাসা বা অস্থায়ী অফিস থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করায় শিক্ষকরা চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, চাকরির মেয়াদ শেষের পথে থাকায় তিনি অনিয়ম ও ঘুষ–বাণিজ্যে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগীদের দাবি— পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে নকিবুল হাসানের দায়িত্ব অবিলম্বে প্রত্যাহার, সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দাখিল করা অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

 


প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুল ইসলাম ওমর, সাবেক এমপি ও বিরোধী দলীয় হুইপ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ মাক্সুদুল আলম হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদকঃ এম নজরুল ইসলাম

ফোনঃ ০১৭১৭০১৬১৩০

যোগাযোগঃ অফিসঃ সাতমাথা, বগুড়া গাজীপুর অফিসঃ সিলমন, টঙ্গি, গাজীপুর

© 71 Vision ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।