অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বার ২০২৫, সময়ঃ ০৭:২০
মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম,দিনাজপুর প্রতিবেদক:-হিলি হানাদার মুক্ত দিবস আজ। একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর ৭নং সেক্টরের আওতায় দিনাজপুরের হিলি হানাদার মুক্ত হয়েছিলো।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ ও গেরিলা যুদ্ধে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার বোয়ালদাড় গ্রামের গোলাম মোস্তফা, একরাম উদ্দিন, বানিয়াল গ্রামের মুজিব উদ্দিন শেখ, ইসমাইলপুর গ্রামের মনির উদ্দিন, মমতাজ উদ্দিন, বৈগ্রামের ইয়াদ আলী ও চেংগ্রামের ওয়াসিম উদ্দিনসহ মোট ৩৪৫ জন মিত্রবাহিনীর সদস্য শহিদ হন।
হিলির মুহাড়াপাড়া এলাকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর স্মরণে নির্মিত "সম্মুখ সমর" স্মৃতিস্তম্ভ আজও তাদের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী জানান, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর সারাদেশের মতো হিলিতেও মরহুম খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্কুল-কলেজের ছাত্র এবং উৎসাহী যুবকদের নিয়ে গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ২৫ মার্চ ঢাকায় বর্বর হামলার পর পাক হানাদারদের প্রতিরোধে গাছ কেটে রাস্তা খনন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে নেতাদের নির্দেশে থানা ও ইপিআর ক্যাম্প থেকে কিছু ৩০৩ রাইফেল স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় তৃতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর নিজাম উদ্দিন ১৭টি গাড়ি বহরসহ অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফুলবাড়িতে অবস্থান নেন। ওই স্বেচ্ছাসেবক দলকে হিলি ইপিআর ক্যাম্পের সুবেদার শুকুর আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন ইপিআর সদস্যসহ বিহারী অধ্যুষিত পার্বতীপুরের হাবড়ায় খান সেনাদের প্রতিরোধে পাঠানো হয়। সেখানে সম্মুখযুদ্ধে গোলার আঘাতে ওই দলের ৯ জন যোদ্ধা শহিদ হন।
হিলির ছাতনী গ্রামে পাক হানাদারদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। মুহাড়াপাড়ায় তারা একাধিক বাংকার তৈরি করে। প্রায় ৬-৭ হাজার পাক সেনা ৪০টি ট্যাংক নিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। ৬ ডিসেম্বর হাকিমপুরে ভারত-বাংলাদেশ মিত্রবাহিনীর সঙ্গে পাক সেনাদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়।
প্রথমদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়লেও পরে সংগঠিত হয়ে ১০ ডিসেম্বর মুহাড়াপাড়া এলাকাসহ পাক সেনাদের বিভিন্ন ঘাঁটিতে আকাশ-স্থল উভয় দিক থেকে একযোগে হামলা চালায়। দুইদিনের তীব্র যুদ্ধের পর পাক বাহিনী পরাস্ত হলে ১১ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে হিলি-হাকিমপুর
হানাদার মুক্ত হয়।মিত্রবাহিনীসহ সব শহীদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে সম্মুখ সমর" স্মৃতিস্তম্ভ। প্রতি বছর মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী র্যালি, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ এবং রুহের মাগফেরাত কামনা সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকেন।
© 71 Vision ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।