অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বার ২০২৫, সময়ঃ ০৩:৫৪
৭১ ভিশন ডেস্ক:-ব্যাপারগুলো ঘটেছে আনুষ্ঠানিকভাবেই। গত বছরই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তে বামহাতি অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, তিনি টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছেন। অর্থাৎ তিনি তিন সংস্করণেই খেলতে চান তিনি। অথচ এক বছরেরও বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে রয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
রবিবার মঈন আলীর অংশগ্রহণে করা ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ পডকাস্টে সাকিব বলেছেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ফরম্যাট থেকেই অবসর নেইনি। এটা প্রথমবার সবাইকে জানাচ্ছি। আমার পরিকল্পনা হচ্ছে দেশে ফিরে একটা পূর্ণাঙ্গ সিরিজ—ওয়ানডে, টেস্ট, টি–টোয়েন্টি খেলে তারপর অবসর নেওয়া। মানে একটা সিরিজের মাধ্যমে সব ফরম্যাট থেকে বিদায় বলতে চাই। সেটা টি–টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হতে পারে, এরপর ওয়ানডে–টেস্ট; বা উল্টোও হতে পারে। যেটাই হোক, আমার সমস্যা নেই। শুধু একটা পুরো সিরিজ খেলেই অবসর নিতে চাই।’
২০২৪ সালের মে মাসের পর সাকিব দেশে ফেরেননি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই তিনি আলোচনায় আসেন। তিনি ছিলেন দলটির মনোনীত একজন সংসদ সদস্য। দেশে না থাকলেও একটি হত্যা মামলার এফআইআরে তার নাম আসে। এরপর তিনি পাকিস্তান ও ভারতে গিয়ে টেস্ট খেলেন। কানপুরে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টই তার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
বাংলাদেশে ফিরবেন কিনা—এমন প্রশ্নে সাকিব বলেছেন, ‘আশাবাদী। তাই তো খেলছি (টি–টোয়েন্টি লিগগুলোতে)। আমি মনে করি এটা সম্ভব হবে।’সাকিব আরও বলেন, ফলাফলের চাপ তিনি নিতে চান না; বরং ঘরের মাঠের একটি সিরিজ খেলে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েই বিদায় নিতে চান। তার ভাষায়, ‘একজন খেলোয়াড় যখন কিছু বলে, সাধারণত সে কথা রাখার চেষ্টা করে। হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত বদলায় না। খেলি বা না খেলি—সে সিরিজ ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে। কিন্তু আমার আর কিছু প্রমাণ করার দরকার নেই। এইটুকুই যথেষ্ট। দেশীয় সমর্থকেরা সব সময় আমাকে সমর্থন করেছেন। তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ঘরের মাঠে একটা সিরিজ খেলে বিদায় নিতে চাই।’
গত বছরের সেপ্টেম্বরে কানপুর টেস্টের আগে সাকিব জানিয়েছিলেন, আর টি–টোয়েন্টি খেলবেন না। একই সঙ্গে অক্টোবরে নির্ধারিত ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজেই শেষ টেস্ট খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেরেবাংলা স্টেডিয়াম এলাকায় টেস্ট সিরিজের আগে বিক্ষোভ–হামলা–অস্থিরতার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে দীর্ঘ নীরবতার জন্য সাকিবকে ক্ষমা চাইতে হয়।
পরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট দলে তাকে রাখেনি বিসিবি। মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তার কারণেই তাকে দলে রাখা হয়নি।
এ বছরের শুরুতে বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, চাইলে সাকিব বাংলাদেশ দলে ফিরতে পারেন। তবে সেপ্টেম্বরে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, সাকিব আর দেশের হয়ে খেলতে পারবেন না। কারণ, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা–২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব ভবিষ্যতের জন্য কী রেখে যেতে চান এমন প্রশ্নে জানান, ক্রিকেটের কাজ শেষ হলেও রাজনীতি থেকে সরে যাননি, ‘ক্রিকেটীয় দিক থেকে আমার ভূমিকা শেষ হয়ে গেছে। এখন হয়তো রাজনৈতিক দিকটা বাকি। বাংলাদেশের মানুষ, মাগুরার মানুষ, তাদের জন্য কিছু করতে চাই। ইচ্ছা ছিল, এখনও আছে। আল্লাহ যেখানে নিয়ে যান দেখা যাক।’
© 71 Vision ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।